নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর, ২০শে আগস্ট :'অন্নপূর্ণা যোজনা'য় নাম থাকা সত্ত্বেও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠল দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার সংলগ্ন প্রশাসনিক ভবন চত্বর। বৃহস্পতিবার সকালে বঞ্চিত মহিলাদের একটি বিশাল অংশ আচমকাই দুর্গাপুর প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। দাবির সমর্থনে প্রায় ৩০ মিনিট তাঁরা রাস্তা অবরোধ করেন। এর ফলে শহরের ব্যস্ততম ওই এলাকায় বেশ কিছু সময় যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। আটকে পড়ে অসংখ্য যানবাহন। খবর পেয়ে নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
পরবর্তীকালে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটক খোলামাত্রই ক্ষুব্ধ মহিলারা ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং প্রাঙ্গণেই নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন। আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ, রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পে আবেদনের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রিজেক্ট বা পেন্ডিং দেখিয়ে তাঁদের হয়রান করা হচ্ছে।
বিক্ষোভকারী মহিলাদের বক্তব্যের মূল বিষয়গুলি:
শ্বশুরবাড়ির জমির দোহাই: বহু মহিলার অভিযোগ, তাঁদের স্বামীদের নামে বা শ্বশুর-শাশুড়ির নামে জমি থাকার কথা বলে আবেদন আটকে রাখা বা পেন্ডিং দেখানো হচ্ছে। মহিলাদের প্রশ্ন, "শ্বশুর বা শাশুড়ির জমি বৌমাকে দেওয়া হবে, তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই! তাহলে স্বনির্ভরতার প্রশ্নে এভাবে আমাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে কেন?"
ভুল তথ্য ও ত্রুটিপূর্ণ সমীক্ষা: অনেকের দাবি, সার্ভে বা সমীক্ষার কাজ একেবারেই সঠিকভাবে হয়নি। কারও কারও ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে তাঁদের তিনটি করে ঘর রয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য।
প্রকৃত অভাবীরা বঞ্চিত: ক্ষুব্ধ মহিলাদের অভিযোগ, যাঁদের নিজস্ব পাকা বাড়ি বা সরকারি চাকরি রয়েছে, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। অথচ চরম আর্থিক অনটনে থাকা প্রকৃত অভাবী মহিলারা দিনের পর দিন বঞ্চিত থাকছেন।
'লক্ষ্মীর ভান্ডার' বনাম 'অন্নপূর্ণা যোজনা': আন্দোলনের রেশ ধরে অনেককে অসুস্থ পরিজনের ওষুধের খরচের কথা তুলে ধরে আক্ষেপ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তাঁদের মতে, আগের 'লক্ষ্মীর ভান্ডার' প্রকল্প অনেক সহজ ও ভালো ছিল। 'অন্নপূর্ণা যোজনা' নিয়ে তাঁরা চরম হতাশ।
"আমরা সব সঠিক তথ্য দেওয়া সত্ত্বেও কেন বঞ্চিত হব? সততার সঙ্গে তথ্য দেওয়াটাই কি তবে আমাদের অপরাধ?"— প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস ধরে ঘোরাঘুরি করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় দুর্গাপুরের প্রশাসনিক ভবন চত্বরে এ দিন চরম উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। প্রশাসনিক সূত্রে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ বা পুনর্মূল্যায়নের আশ্বাস না মেলা পর্যন্ত বিক্ষোভ জারি রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আবেদনকারীরা।
0 মন্তব্যসমূহ