BREAKING NEWS

6/recent/ticker-posts

"দুস্টু গরুর থেকে শুন্য গোয়াল ভালো ''

​নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পান্ডবেশ্বর এর বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি মানুষের উপরে হওয়া অত্যাচার ও অন্যায় এর প্রতিবাদ করে এসেছেন বিরোধী থেকে শাসকের চেয়ারে আসীন হওয়া অব্দি। আর তাই প্রকাশ্যে মঞ্চে কিছু দলীয় কর্মীদের অনুশাসন করার ভিডিও নিয়ে আলোড়ন সমাজ মাধ্যমে। যে ধরনের গুরুতর অভিযোগ বিরোধীদের মুখে শোনা যাবার কথা , এবার সেই একই অভিযোগ প্রকাশ্যে নিজের দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে তুললেন পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্যে জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। খোদ নিজেদের বিধায়কের এমন মন্তব্যে কার্যত অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির এমনই মনে করছেন বিরোধী শিবিরের কিছু মানুষ । কিন্তু মাটির সঙ্গে থাকা বিধায়ক জানেন ও বোঝেন সাধারণ মানুষের কাছের কী ভাবে হওয়া যায়। যে সাধারণ মানুষ অনেক সময় শাসক দলের বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় দাদা অথবা বিশেষ দাদাদের গন্ডি পেরিয়ে বিধায়ক তথা সরকারের প্রতিনিধির কাছে যেতে পারেনা, সেই সাধারণ মানুষের ঘরের ছেলে হয়ে উঠতে গেলে সুবিধাবাদী কিছু দলীয় কর্মীদের যেমন অনুশাসন দর​কার তেমনি সাধারণ মানুষ তাঁর কাছে সহজেই আস্তে পারবেন এই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে নির্বাচনী স্লোগান "ভয় আউট ভরসা ইন" এটা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দরকার। বিস্ফোরক আত্মসমালোচনা করেন বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি সম্প্রতি একটি দলীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে।  নিজের ক্ষোভ উগরে দেন জিতেন্দ্র তেওয়ারি।কার্যত আত্মসমালোচনার সুরে তিনি কিছু নির্দিষ্ট দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে সাবধান করে বলেন: ​"গত ১৫ বছরে পান্ডবেশ্বর বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা যত বড় গুন্ডা হয়েছিল বিগত ২ মাসেই আমাদের কর্মীরা তাঁর থেকেও বড় গুন্ডা হবার চেষ্টা করছে। মানুষের সাধারণ জীবন যাপনে সমস্যা সৃষ্টি করছে।আগের সরকারের কর্মীরা যদি মাসে ৪ টে কোয়ার্টার দখলে এনেছে তো এখন সপ্তাহে ৪টে কোয়ার্টার দখল করার খবর আসছে। ঠিকাদার দের কে বিভিন্ন ভাবে অনৈতিক নির্দেশ ছাড়াও চাঁদা বা অন্যায় উপায়ে টাকা চাইছে। অন্যায়-অত্যাচার করেছে, এরা ভাবছে বিধায়ক কিছু জানতে পারবে না কিন্তু সব খবর জানতে পেরেছেন বিধায়ক এবং তিনি জনগণের উদ্দেশ্য বলেন এখানে কোন নেতা নেয় সব কালেকশন মাস্টার হয়ে গেছে তাই মহিলা নেত্রী সোনালী গিরি কে বিধায়ক স্বীকৃতি দেন সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্য এ ।"
​এখানেই থামেননি তিনি। বিধায়কের আরও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, বিজেপির পতাকার আড়ালে এলাকায় এলাকায় দেদার চাঁদাবাজি, জুলুমবাজি ও আবাসন দখল-সহ একাধিক অনৈতিক কাজ চালানো হচ্ছে। যে ধরনের কাজ প্রাক্তন বিধায়ক করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন বারংবার সেই একই ধরনের কাজ কে তিনি স্বীকৃতি দেন না সেক্ষত্রে তাঁর জয়ধনী দরকার নেই তাঁর থেকে ভালো 'দুস্টু গরুর থেকে শুন্য গোয়াল '। তিনি দু একজন তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের নাম করে বলেন এই রকম ধরনের নেতা যদি কেউ হতে চান তাহলে দলীয় পতাকা নামিয়ে অনৈতিক কাজ করুন। এই ধরনের কর্মকাণ্ড কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও কড়া বার্তা দেন তিনি, তিনি জনৈক তৃণমূল কর্মী রূপচাঁদ নামক এক ব্যক্তির নাম নিয়ে দলীয় কর্মীদের বলেন যে গুন্ডাগিরি করেছে তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই হবে তা বলে তাঁর পরিবার কী দোষ করেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির মেয়ে প্রতিবন্ধী তাঁর বাড়িতে কেনো কোন সমর্থক চড়াও হবেন এটা তিনি মেনে নেবেন না। যার যে রাজনীতির দল করার তাঁকে সেই রাজনীতি করতে দেওয়া হোক। তিনি যে বিষয় টি আসলে তুলে ধরতে চেয়েছেন তাঁর কথা তে সেটি উঠে আসে তাঁর দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি যখন প্রশ্ন করেন ​"তাহলে পার্থক্য কোথায়?" তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। দলের একাংশের এই ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বিধায়ক জনসমক্ষেই প্রশ্ন তোলেন— ক্ষমতায় এসেই যদি দলের একাংশ মানুষের ওপর এভাবে অত্যাচার ও জুলুমবাজি শুরু করে, তাহলে বিজেপি আর তৃণমূলের মধ্যে আদর্শগত পার্থক্য কোথায় রইল? তাঁর এই সোজা সাপটা প্রশ্ন এখন বিজেপির অন্দরেই বড়সড় বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অনেকে মনে করলেও কিছু সাধারণ মানুষের বক্ত্যব্য এমন বিধায়ক ই সমাজের দরকার যিনি অন্যায় হলে দলীয় কর্মীদের প্রকাশ্যে শাসন করতে পারে । বিধায়ক যদি নিজের সানিধ্যের মধ্যে থাকা কর্মীদের প্রশ্রয় দেন তাহলে অনৈতিক কাজ যেমন বাড়তে পারে তেমনি সাধারণ মানুষ তাঁদের মনের কথা বলতে না পেরে ক্ষোভের সঞ্চার করবে আর তাই যে বিষ বৃক্ষের চারা একদিন বড় হয়ে বিগত ১৫ বছরের সরকার কে উৎখাত করেছে সেই ঘটনার পুনরাবৃতি তিনি আটকাতে দলের কর্মীদের অভিভাবক স্বরূপ শাসন করলেও বিতর্ক হয় সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে। 
কিছু মাধ্যমে বিজেপি সরকারের কর্মীদের দুর্নীতি শুরু হয়েছে বলে বলা হলেও বিধায়ক হিসাবে দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যে প্রশংসনীয় সেটা অন্যদিকে তুলে ধরা উচিত বলে মনে করছেন একাংশ । উল্টে এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিরোধী দলগুলো। বিরোধীদের দাবি, বিজেপির ভেতরের আসল চেহারাটা এবার তাদের নিজেদের বিধায়কই জনসমক্ষে টেনে আনলেন। অন্যদিকে, এই মন্তব্য নিয়ে দলের অন্দরে জলঘোলা শুরু হওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন গেরুয়া শিবিরের কিছু নেতৃত্ব।​রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি কি শুধুই দলের কিছু কর্মীদের প্রতি ক্ষুব্ধ এক বিধায়কের সাময়িক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর পেছনে বিজেপির সাংগঠনিক স্তরের কোনও গভীর ফাটল ও বড়সড় সতর্কবার্তা লুকিয়ে রয়েছে— তা আগামী দিনেই স্পষ্ট হবে। তবে এই মন্তব্যকে ঘিরে যে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বিতর্ক আরও বাড়বে, না উল্টে পান্ডবেশ্বর এর বিধায়ক সাধারণ মানুষের আরো কাছের হবে সে দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
​#JitendraTewari #BJP #WestBengalPolitics #Asansol #Pandaveswar #PoliticalNews

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ