নিজস্ব সংবাদদাতা, কাঁকসা, ৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৬: জঙ্গল থেকে উদ্ধার হলো চার-চারটি মানুষের কঙ্কাল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কাঁকসার মলানদিঘির জাঠগড়িয়া মোড় এলাকায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কাঁকসা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। জঙ্গল থেকে একসঙ্গে চারজন মানুষের কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন ও রহস্য তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গলের বেশ খানিকটা গভীরে মানুষের কঙ্কালগুলি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন বাসিন্দারা। খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সম্পূর্ণ এলাকা ঘিরে ফেলে। নির্দিষ্ট আইনি ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া মেনে কঙ্কালগুলি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে আসপাশের এলাকাতেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
তবে উদ্ধার হওয়া চার-চারটি কঙ্কাল কোথা থেকে এলো, কতদিন ধরে সেখানে পড়েছিল এবং এই মৃত্যুর নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে—সে সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। কঙ্কালগুলি কার, তাদের পরিচয় এবং এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এই বিষয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার রাসপ্রীত সিং ঘটনা স্থলে পৌঁছান। পুলিশ সূত্রে জানা যায় উদ্ধার হওয়া চারটি কঙ্কালই প্রাথমিকভাবে মানুষের বলে চিহ্নিত করা গেছে। ফরেনসিক বিভাগের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে এসে কঙ্কালগুলি উদ্ধার করেছেন। ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে। কঙ্কালগুলির সাথে এলাকার কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির যোগসূত্র রয়েছে কি না বা কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছিল, সে বিষয়ে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতি মধ্যেই উদ্ধার হওয়া কঙ্কালগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সময়, পরিচয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসবে বলে ধারণা তদন্তকারীদের ।একসঙ্গে চার-চারটি কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চঞ্চলতার সৃষ্টি হয়েছে। কোনো বড় অপরাধের কারণে এগুলো এখানে ফেলা হয়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে—সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এখন পুলিশের তদন্তের অগ্রগতির দিকেই তাকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা।
0 মন্তব্যসমূহ