BREAKING NEWS

6/recent/ticker-posts

গ্রাফাইট কারখানায় নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, ক্ষুব্ধ পুরনো বিজেপি কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি , দুর্গাপুর, ৬ ই অক্টবর ২০২৬ :-  একদিকে সংবাদ করতে যাওয়া মন্ডল সভাপতির সঙ্গপাঙ্গ জনৈক সঞ্জয় সিং নামক এক ব্যক্তির বেঙ্গল লেন্স এর সাংবাদিককে ছবি তুলতে বাধা আর উল্টো দিকে গ্রাফাইট কারখানায় কর্মী নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপোষণ এবং পুরনো কর্মীদের বঞ্চিত করার অভিযোগে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে ক্ষোভ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। একদিকে সঞ্জয় সিং এর মতো ব্যক্তিরা জয় বালাজি গ্ৰুপ এ শুভম এন্টারপ্রাইস এর অধীনে কাজ করতে করতে আবার মকরানী ইনফরাস্ট্রাকচার এর অধীনে কন্ট্রাক্টচুয়াল দুর্গাপুর এ অতি চর্চিত গ্রাফাইট ইন্ডিয়া কারখানায় কাগজে কলমে হেলপার হিসাবে কয়েকদিনের যোগদান এর একটি খবর সূত্র মারফত আসছে।শুভম এন্টারপ্রাইস এর তরফ থেকে জানা যায় যে নিয়মগত ভাবে তাঁদের কোন রিজাইন লেটার না দিয়ে কাজে আসছেন না কয়েকদিন, ফোন ও ধরছেন না সঞ্জয় সিং, এবার প্রশ্ন এই সঞ্জয় সিং ই কী সেই ব্যক্তি বা একই ব্যক্তি না অন্য ব্যক্তি সেই বিষয়ে দুটি সংস্থায় বলতে পারবে কিন্তু অসমর্থয়িত সূত্র মারফত খবর একই ব্যক্তি । উল্টো দিকে বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভ যখন দলীয় কার্যলয়ে।  তখন ছবি তুলতে বাধা সংবাদ মাধ্যম কে এই সঞ্জয় সিং এর । এই বাধা কী তাহলে শুধুই একাধিক চাকরির বিষয়ে খবর ঢাকতে। এদিকে
বিক্ষোভকারী পুরনো কর্মীদের মূল অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যারা দলের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছেন এবং কষ্ট সহ্য করেছেন, তাদের সুযোগ না দিয়ে নতুন ও সম্প্রতি দলবদল করে আসা মুখদের কারখানায় নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।বিজেপি কর্মী নবকুমার গড়াই বলেন, "যারা এতদিন দলের জন্য খেটেছেন, লড়াই করেছেন, তাদের সুযোগ না দিয়ে নতুন ছেলেদের ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চার ই মে ২০২৬ তারিখের নির্বাচনের ফলের পর যারা দল পরিবর্তন করে এসেছে, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বহু পুরনো কর্মী ও বুথ সভাপতিদের নাম নিয়োগের তালিকার মধ্যেই রাখা হয়নি। এ বিষয়ে মন্ডল সভাপতি, স্থানীয় বিধায়ক এবং ওয়ার্ড কনভেনর পরেশ দাস সহ দলের উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।" তিনি আরও অভিযোগ সহকারে জানান যে, নিয়োগ তালিকার দায়িত্বে থাকা কনভেনরকে আলোচনায় ডাকা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। একই সুর শোনা গেছে অপর এক কর্মী দেবায়ন রায়-এর গলায়। তিনি বলেন, "আমাদের নতুন লোক ঢোকায় কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু যারা বছরের পর বছর দলের জন্য খেটেছে, ক্ষতি সহ্য করেছে, তাদের বাদ দিয়ে সম্প্রতি আসা নতুনদের কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে? আমরা নিয়োগে স্বচ্ছতা চাই। বিষয়টি নিয়ে কনভেনর পরেশ দাস সহ নেতৃত্বকে বারবার জানানো হলেও তারা কোনো যোগাযোগ করছেন না বা এড়িয়ে চলছেন।" পুরনো কর্মীদের দাবি, গ্রাফাইট কারখানায় কর্মী নিয়োগে কোনো প্রকার স্বজনপোষণ বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না এবং অবিলম্বে স্বচ্ছতার সাথে পুরনো যোগ্য কর্মীদের সুযোগ দিতে হবে।  এদিকে মন্ডল সভাপতি তেজ নারায়ন পান্ডে কে আজ ঘটনাস্থলে পাওয়া যায় নি এবং ঘটনা প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান তিনি এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানাবেন। উল্টোদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিদেড় মতামত যে এ যেন অতি পরিচিত পুরানো চিত্র নাট্য এর রিহার্সাল দেখছেন। প্রশ্ন তাহলে কী সেই তৃণমূল জমানা শুরু করছে বর্তমান বিজেপি নেতৃত্ব। একদিকে দলীয় কর্মীদের ক্ষোভ আর উল্টোদিকে ঘটনা চাপা দিতে সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠেরোধ করার কৌশল।  কিছুদিনের এই সরকারের আমলে ২৯ নাম্বার বিজেপি পার্টি অফিসে অতি সাধারণ কর্মীদের যদি সংবাদ মাধ্যম কে চোখ রাঙিয়ে কথা বলার পর্যয়ে যেতে পারে তাহলে আগামী দিনে কী এই ধরনের আচরণ কে দল স্বীকৃতি দেবে ?? প্রশ্ন বি,এম,এস নেতৃত্ব যাদের কে গ্রাফাইট এর দায়িত্ব দিয়েছে সেই শ্রমিক নেতারা কী কোথাও কোর্ডিনেশন করতে ব্যর্থ না তার পরিবর্তে পুরোনো কর্মীদের চক্রান্ত করে পার্টি অফিস থেকে বিতাড়িত করে তৃণমূল এর সমর্থক দেড় পার্টি অফিসে স্বীকৃতি দিয়ে মুষ্টি মেয় কয়েক জনের নেতা হবার প্রচেষ্টা কী আগামী ভবিষৎ এ দলের ই ক্ষতি করছে??  এদিকে সূত্র বলছে যে এই সঞ্জয় সিং এর মতো ব্যক্তিরা দলের দুর্দিনেও যখন বালাজি কারখানায় কর্মরত ছিলেন সেই সময়ে পেটে গামছা বেঁধে দলের জন্যে কাজ করা কর্মীরা আজও বঞ্চিত অথচ এই সঞ্জয় সিং আবার গ্রাফাইট কারখানায় নতুন নিযোগ কী করে হচ্ছে ? পুরোনো কর্মীরা প্রশ্ন তুলছে যে একজনের জন্যে খাবার ভর্তি সোনার বাটি আর একজনের জন্যে অন্নহীন এমন কেমন ব্যবস্থা? তাহলে কী এই বঞ্চনা আগামী পৌরসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস না ভালো তৃণমূল অথবা খারাপ তৃণমূল কে পাবে অ্যাডভান্টেজ এটা সময় বলবে? গ্রাফাইট কারখানা নিয়ে অতীতে তৃণমূল সরকার যখন নানা অভিয়োগে জর্জরিত ছিলো এবং শ্রমিক মহলে অসন্তোষ লাগাম ছাড়া ছিলো সেই সব কী বর্তমান শাসক দলের নেতারা মাথায় রেখে কাজ করবেন ?  না তাঁদের সেই পরিস্থিতি সামলাতে যোগ্য নেতার অভাব গ্রাফাইট কারখানার একই ছবির পুনরাবৃত্তি ঘটবে? এই বিষয়ে মন্ডল সভাপতি তেজ নারায়ন পান্ডে, কনভেনার পরেশ দাস অথবা শ্রমিক নেতা ভৈরব বাউরির কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। মন্ডল সভাপতি তেজ নারায়ন পান্ডে কে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান তিনি বাইরে আছেন তাই এখন কিছু বলতে পারবেন না। বিক্ষুদ্ধ কর্মীদের বক্ত্যব্য তাহলে জবাব দেবে কে ? আক্ষেপের শুরে দেবায়ন রায় বলেন যে অন্যায় অত্যাচার নীতি হীনতার কাজ এক সময়ে তৃণমূল করেছে এখন যেন সেই সিনেমার রিমিক্স দেখা হচ্ছে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ