কিছুদিন আগেই তারাপীঠের এক ঘিঞ্জি গলির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন পর্যটক। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এলাকা জুড়ে জোর চর্চায় আসে ‘তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ’ বা টিআরডিএ (TRDA)-র কাজের ভূমিকা। অন্যদিকে ঘিঞ্জি এলাকায় কীভাবে একাধিক বহুতল লজ নির্মাণের অনুমোদন এর সব আইনগত দিক গুলি দেখে দেওয়া হয়েছিল কিনা , তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে তদন্ত শুরু হয়। এরই মধ্যে বিতর্ক আরও গভীর হয় যখন তৃণমূল আমলে দায়িত্বে থাকা বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার তথা রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস ব্যানার্জির মৃর্তু। মাস্টার মশায় তথা অধ্যাপক আশিস ব্যানার্জির দেহ তাঁর দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চিঠিতে টিআরডিএ-র বিভিন্ন টেন্ডার ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি এবং সেই নিয়ে তাঁর ওপর ওঠা অভিযোগ ও রাজনৈতিক মানসিক চাপের কথা উল্লেখ ছিল বলে সূত্রের খবর। এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র তারাপীঠ ও রামপুরহাট চত্বরে প্রশাসনিক স্তরে ব্যাপক আলোড়ণ সৃষ্টি হয়।তার সঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে য়থেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি হয় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এরপরে
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বীরভূমের তারাপীঠ সফরে এসে বিশেষ ঘোষণা করেন কয়েকটি বিষয়ে। তৃণমূল জমানা পরবর্তী এই নতুন সরকারের প্রথম বড় ধর্মীয় উৎসব পালনে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না রাজ্য প্রশাসন। সম্প্রতি বীরভূম সফরে এসে তারাপীঠ মন্দিরে বিশেষ পূজার্চনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মা তারার চরণে পূজার সামগ্রী ও রক্তজবার মালা অর্পণ করে তিনি রাজ্যের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
সফরকালে পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ও উৎসবের সুষ্ঠু পরিচালনায় একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী,বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ করেন তিনি। উৎসবের ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সুবিধার জন্য বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।এছাড়া
পুষ্পবৃষ্টির পরিকল্পনার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। আবহাওয়া অনুকূল এবং আকাশ পরিষ্কার থাকলে অমাবস্যার বিশেষ লগ্নে আকাশপথ (হেলিকপ্টার) থেকে তারাপীঠ মন্দির ও পুণ্যার্থীদের ওপর পুষ্পবৃষ্টির ব্যবস্থা রাখার কথা শোনা গেছে। মন্দিরের সার্বিক উন্নয়ন এবং মন্দির চত্বরের নিরাপত্তা সহ সুষ্ঠ পরিচালনার জন্যে ৫ লক্ষ টাকার প্রশাসনিক অনুদানের ঘোষণা করা হয়েছে।নিরাপত্তা ও পুলিশ প্রশাসনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে জোরকদমে। বিগত সরকারের আমলের থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং সাম্প্রতিক অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে জেলা পুলিশ ও প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক। এর মধ্যে
১. কঠোর অগ্নিনির্বাপক নজরদারি: অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর এবার তারাপীঠের প্রতিটি লজ ও গেস্ট হাউসে ফায়ার অডিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
২. নজরদারিতে ড্রোন ও সিসিটিভি: তারাপীঠ মন্দির চত্বর, দ্বারকা নদীর ঘাট ও মহাশ্মশানে ভিড় সামলাতে হাজার হাজার পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। কন্ট্রোল রুম থেকে ড্রোন ও সিসিটিভির মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চলবে সূত্র মারফত খবর।
৩. জরুরি পরিষেবা: মন্দির সংলগ্ন এলাকায় থাকছে বেশ মেডিকেল ক্যাম্প, ওয়াচ টাওয়ার এবং দমকলের একাধিক ইঞ্জিন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও একাধিক বিতর্কের আবহে এবার কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে ভক্তদের সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ দর্শন সুনিশ্চিত করাই নতুন রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
0 মন্তব্যসমূহ