সন্দীপ ভট্টাচার্য, দুর্গাপুর, ৮ই মে ২০২৬:- একদিকে হাসপাতালের গেটে দুশ্চিন্তায় মুর্মুষ রোগীর পরিবার আর উল্টোদিকে বন্ধ পার্টি অফিস খোলানো আর বার্তা চলছে দখল মুক্ত করার। আর অন্যদিকে রাত পোহালে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। আর তার জন্য কলকাতা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড এ সাজে সাজো রব। যথেষ্ট ব্যস্ততার চিত্র পদ্ম শিবিরের বঙ্গ বিজেপির দপ্তরে। কিন্তু চিন্তার ভাঁজ আপামর বাংলার চিকিৎসাধীন নিম্ন-মধ্যবিত্ত রোগীদের পরিবারের। কী হবে কাল সকালে চিকিৎসার জন্যে গরিবের ও মধ্যবিত্ত মানুষের একমাত্র ভরসা স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের। কাল ৯ তারিখ যখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথে ব্যাস্ত থাকবেন আর ব্যস্ত থাকবেন জয়ী বিধায়করা সেই সময় কী পুরোনো নিয়মে চলবে স্বাস্থ্যসাথী পরিষেবা না হাসপাতালে রোগীদের এই পরিষেবা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে ? কাল কী হবে এই প্রশ্ন কোথাও কী অনিশ্চিয়তা রোগীর পরিবারের বুঁকের ধরফোরানী বাড়াচ্ছে এখন এটাই কী প্রশ্ন? আজ অব্দি
স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসা হয়েছে ভর্তিও হয়েছে কিন্তু কাল সরকার এর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পড়ে আগামী সরকারের কাজ শুরু হবার আগে এই পরিষেবা পাওয়া যাবে কী না অকুল অনিশ্চিয়তা দেখা দিচ্ছে কিছু মানুষের মনে। আর টাকার অভাবে ডায়ালিসিস থেকে শুরু করে ক্যান্সার রোগীর কেমোথেরাপি কী হবে এই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে? বাংলার অসহায় রোগীদের কাল কিভাবে ভর্তি হবে সেটা একটা চিন্তার প্রশ্ন অনেকের মধ্যে? দুর্গাপুর এর এক স্বনামধন্য শল্যচিকিৎসক উদয়ন চৌধুরী ও দুর্গাপুরের এক বেসরকারি প্রথম শ্রেণীর হাসপাতালের উচ্চ পদস্থ কর্মীর ( নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক )কাছ থেকে জানা গেল ৪ তারিখের ভোটের ফলাফল এর পর থেকে আজ অব্দি মুর্মুষ রোগীর ও তাঁদের পরিবারের মাথায় চিন্তা থাকলেও এখন আজ অব্দি হাসপাতাল গুলিতে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে ভর্তি হচ্ছে কিন্তু কাল শপথ গ্রহণের পড়ে কী হবে এটার এখন কোন স্পষ্ট সার্কুলার আসেনি বা বলা যাবেনা। অর্থাৎ সুস্পষ্ট কোন বার্তা নজরে আসেনি বলা যেতেই পারে তাই ধোঁয়াশা সৃষ্টি হচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে । নতুন সরকার যে এটা প্রথম অগ্রাধিকার দিয়ে দেখবেন সেই বিষয়টি দুর্গাপুরের এক বেসরকারি প্রথম শ্রেণীর হাসপাতালের উচ্চ পদস্থ কর্মী জানালেও গতকাল শপথ গ্রহণের পড়ে থেকে মন্ত্রী সভার সিদ্ধান্ত অব্দি এই অন্তরবর্তী সময় টী নিয়ে চিন্তা বাড়ছে রোগী ও তাঁদের পরিবারের। যদি কাল হাসপাতাল গুলি স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের দ্বারা ভর্তি নিতে অস্বীকার করে তাহলে কোথায় যাবে সাধারণ মানুষ বা কাকে বলবে? সেক্ষেত্রে কী বেসরকারি হাসপাতালের বিল তারা দিতে পারবেন ? যদি স্বাস্থ্য সাথী কার্ড এ ভর্তি নিয়ে সরকারি ভাবে কোন সমস্যা না থাকে সেক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতাল ভর্তি নিতে অস্বীকার করে তাহলেও সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে এই প্রশ্ন অথবা চিন্তা কী রোগীর পরিবারের মাথায় ঘুরছে ? চিকিৎসাধীন রোগীদের পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যহত না হয়, সেই দাবিতে মুখ্যসচিবের কাছে ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি মেডিকেল সেল জরুরি আবেদন জানিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। শুক্রবার নবান্নের মুখ্যসচিবের উদ্দেশে পাঠানো এক মেইল এ সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে 'স্বাস্থ্য সাথী' প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর এই প্রকল্প আগের মতো চলবে কিনা, নাকি তার পরিবর্তে আয়ুষ্মান ভারত বা অন্য কোনও স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে মুখ্যসচিবের কাছে জরুরি আবেদন জানিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি মেডিকেল সেল। এই সংগঠন দাবি করেছেন এই অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়তে পারে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উপর। বিশেষ করে- নিয়মিত হেমোডায়ালিসিস ও রক্ত সঞ্চালন নির্ভর রোগী, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি চলা ক্যানসার আক্রান্ত থেকে হার্ট অ্যাটাক, কার্ডিয়াক ফেইলিওর, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি-সহ জরুরি হৃদরোগ চিকিৎসার রোগী যেমন আছে তেমনি রয়েছেন ট্রমা ও অন্যান্য জীবনসংশয়ী অবস্থার রোগীরা । সূত্র থেকে জানা যায় মেইল করে সংগঠন থেকে বলা হয় প্রশাসনিক অনিশ্চয়তার কারণে কোনও জীবনদায়ী চিকিৎসা বন্ধ, স্থগিত বা অস্বীকার যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার আবেদন ।
0 মন্তব্যসমূহ